ক্ষমতার অপব্যবহার ও ২০ বছর একই চেয়ারে: গণপূর্তের আসাদুজ্জামান লিপটনকে নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

​​গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-৩-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিপটনকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই দপ্তরে বহাল তবিয়তে থাকা, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারি এবং রাজনৈতিক পদপদবী ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রেখে বর্তমান আমলেও কীভাবে তিনি সমানভাবে দাপট বজায় রেখে চলেছেন।

​একই চেয়ারে ২০ বছর এবং দলীয় প্রভাব

​অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিপটন দীর্ঘদিন ধরে ‘বঙ্গবন্ধু পি ডব্লিউ ডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সংসদ ভবন ও আশপাশের সংবেদনশীল এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও আসাদুজ্জামান লিপটনের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি একই কর্মস্থলে ও পদে টিকে থেকে বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

​সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারি

​জাতীয় সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় ধরনের অনিয়ম এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন পন্থায় বরাদ্দ নয়ছয় করার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। অথচ দাপ্তরিক জবাবদিহিতা বা কোনো ধরনের বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই তিনি বহাল তবিয়তে নিজের কার্যক্রমে বহাল রয়েছেন।

​নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দায়িত্ব

সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় তাঁর অনিয়মের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-৩-এর অধীন ই/এম বিভাগ-৭, উপ-বিভাগ-১৩ (শাখা-২)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল আহমেদের পদ শূন্য হওয়ার পর সেখানে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এই শূন্য পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অর্থাৎ নির্বাহী প্রকৌশলীর।

​কিন্তু গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: মাহবুবুর রহমান এক অফিস আদেশের (স্মারক নং-১৭৯৯) মাধ্যমে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিপটনকে তাঁর নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ওই শূন্য পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, দাপ্তরিক বিধি লঙ্ঘন করে এই আদেশ হাসিল করার পেছনে আসাদুজ্জামানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লবিং ও প্রভাব কাজ করেছে।

​যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তিনি অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সে নিজেকে ই/এম এর গড ফাদার হিসাবে পরিচয় দেয়।তার কথায় সবাই চলে। শোনা যায় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার আশিরবাদ নিয়ে সে এখন সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিপটনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

​তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও দাপ্তরিক অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।