রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতপরিচয়ে দাফন করা আট জুলাই শহিদদের পরিচয় শনাক্ত -মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজমবীর প্রতীক বলেছেনরায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতপরিচয়ে দাফন করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। তাঁদের মধ্যে থেকে ময়নাতদন্ত এবং সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে আট জন অজ্ঞাতনামা শহিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।     

তিনি আজ ঢাকায় রায়ের বাজার কবরস্থান প্রাঙ্গণে সিআইডি আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহিদদের মরদেহ পরিচয় সনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

 উপদেষ্টা বলেনএ কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ডঃ মরিস টিডবল-বিনজ বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিকডিএনএ ও মেডিক্যাল ফরেনসিক টিমসমূহকে দুইদিন ব্যাপি কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। পরবর্তীতে UNHCR-এর সহায়তায় ডঃ লুইস ফন্ডিব্রিডারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রম মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। কবর থেকে মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলনময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেনযদিও এখনো কিছু শহীদের পরিচয় উদঘাটন বাকি রয়েছেএই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং সকল শহিদকে তাদের আপনজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।

ফারুক ই আজম বলেনএই শনাক্তকরণের ফলে শহিদদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছেন যে তাঁদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে বা তাঁরা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছেন। যা তাদের এবং জাতির জন্য এক বিরাট মানসিক শান্তির কারণ হবে। তিনি বলেনএ কার্যক্রম কেবল আইনমানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন নয়এটি নিখোঁজ শহিদদের পরিচয় নির্ধারণপরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

 পরে সনাক্তকৃত শহিদদের কবর তাদের নিকট আত্মীয়দের বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এছাড়াও উপদেষ্টা শহিদদের স্মরণে কবরস্থানে স্থাপিত নামফলকের উদ্বোধন এবং মোনাজাত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান  উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমানসিআইডি প্রধান মোঃ ছিবগাত উল্লাহ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ সোহেল রানার মা। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *