পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্ব নেই স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা চালু করার তৎপরতা বেড়েই চলছে

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অস্তিত্ব না থাকা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারকে দেখাতে চালু করার তৎপরতা বেড়েই চলছে। উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সারাপিগছ গ্রামে সরেজমিনে গেলে নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার
এই তথ্য জানতে পারা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই মাদ্রাসাটি পাশাপাশি গ্রাম কুরানুগছে ছিল। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কসিম উদ্দিন, শরীফ উদ্দিন ও নফিস উদ্দিন। আরও জানা যায়, এই মাদ্রাসাসহ আরেকটি মাদ্রাসা নিয়ে চলতি বছরের গত ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন ‘তেঁতুলিয়ায় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই তবুও অনুদানভুক্ত এরপর তথ্য প্রেরণ এবং তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্ব মেলেনি দুই স্বতন্ত এবতেদায়ী মাদরাসার’ বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল পত্রপত্রিকায় শিরোনাম প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে ওই দুই স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার কোনো তথ্য বা স্থাপনা পাওয়া যায়নি এবং কোনো অস্তিত্ব নেই মর্মে জানা গেছে। আরও জানা যায়, প্রকাশিত সংবাদে ওই দুই মাদ্রাসার বিষয়ে সমস্ত তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করেছেন প্রতিবেদক।
অস্তিত্ব না থাকা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা দুটি হলেন, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও ভজনপুর ইউনিয়নের নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা।
সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করতে আবারো অস্তিত্ব না থাকা সেই দুই মাদ্রাসার মধ্যে নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি লুৎফর রহমানের জমিতে বারান্দাসহ চার চালা ঘর তুলে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করার পাঁয়তারা শুরু করছেন সরেজমিনে গিয়ে এমনটি জানতে পারা যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এই মাদ্রাসা উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের কুরানুগছ গ্রামে ছিল। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ বছর পূর্বে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই মাদ্রাসাটিই এখন সারাপিগছ গ্রামে নতুন করে ঘর নির্মান হচ্ছে।
সারাপিগছ গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, তিনি নিজের জমি দিয়ে মাদ্রাসাটি গড়ে তুলার চেষ্টা করছেন। পহেলা জানুয়ারি থেকে মাদ্রাসাটি চালু করবে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সরকারি ভাবে চারজন শিক্ষক আছে। তিনি আরও বলেন, বিশ বছর আগে কুরানুগছ মসজিদের পাশে টিনের চাপড়া দিয়ে মাদ্রাসাটি চলতো। পরে বন্ধ হয়ে গেলে মাদ্রাসাটি চালু করতে কয়েকটি সিমেন্টের খুটি দাঁড় করলে অনেক বাধা বিপত্তি আসে। তিনি বলেন, যেহেতু কাগজে কলমে দেখি মাদ্রাসাটি আছে তাই তিনি নিজের জমিতে তড়িঘড়ি করে চালু করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে ওই মাদ্রাসার তথাকথিত শিক্ষক সালামকে মুঠোফোনে কল করলে বলেন, তিনি ২০২৩ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। জুন মাসে ওই মাদ্রাসার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি অথচ কিভাবে আপনি ২০২৩ সালের শিক্ষক হলেন প্রশ্নে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে আরও জানতে তথাকথিত শিক্ষক একরামুলকে মুঠোফোনে কল করলে বাইকে আছে পরে কথা বলবেন বলেই কলটি বিচ্ছিন্ন করেন। পরে আর ফোন করেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলী বলেন, নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা নতুন করে ঘর তোলার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ডেকে বিষয়টি দেখার জন্য বলবেন জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *