ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানি পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সম্পদ কাজে লাগাতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত শনিবার ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

পাম বিচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এই অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের বিশাল সব তেল কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাব। সেখানে তারা কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে এবং দেশটির ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে, আর এর মাধ্যমে তারা ওই দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।’

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না এবং এটি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

২০১৭ সালে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং এর দুই বছর পর দেশটির তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বর্তমানে ওপেক-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা দিনে ১০ লাখ ব্যারেলেরও কম অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এই তেলের বেশির ভাগই কালোবাজারে অনেক কম দামে বিক্রি করে আসছিল।

ট্রাম্পের দাবি, কারাকাস এই তেলের টাকা দিয়ে মাদক সন্ত্রাস, মানবপাচার ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া সব লাইসেন্স বাতিল করেন।

শুধুমাত্র মার্কিন কোম্পানি শেভরন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল।

শেভরন বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর সঙ্গে যৌথভাবে চারটি তেলক্ষেত্রে কাজ করছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাগামী সব ট্যাঙ্কারের ওপর পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেলের মজুদের ১৭ শতাংশই রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশটি শীর্ষ উৎপাদক হতে পারেনি।

ভেনেজুয়েলার তেলের মান কিছুটা কম হওয়ায়, তা দিয়ে পেট্রোলের চেয়ে ডিজেল বা অ্যাসফল্ট বেশি তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের তেল পরিশোধন করার জন্য বিশেষ শোধনাগার রয়েছে।

অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তেলের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই এখানে বড়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শোর্ক গ্রুপ’-এর বিশ্লেষক স্টিফেন শোর্ক গত মাসে এএফপি-কে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো অবস্থানে আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *