ভিন্নতার মাঝে ঐক্য স্থাপনই আমাদের মূল নীতি, কোনো বৈষম্য থাকবে না: সংস্কৃতি মন্ত্রী

শুভদিন রিপোর্টার:

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আজ মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে ‘মহানগর পরিবার দিবস উদ্বোধন, গুণীজন সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী জয়ন্ত কুমার দেব-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আব্দুস সালাম।
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। আমাদের সরকার জনগণের সরকার, তাই কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি সেটি বিবেচনা না করে আমরা সবার জন্যই কাজ করব। গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মত ও আদর্শ থাকবেই, আর এই বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য আনয়নই আমাদের নীতি। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, আইনের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান। জাতিগতভাবে আমরা বাঙালি হলেও ভৌগোলিক সীমারেখায় আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের লক্ষ্য বিভাজন বা সংঘাত নয়, বরং শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের যেখানে ব্যথা, আমারও সেখানেই ব্যথা। এগুলো নিয়ে চিন্তার কারণ নেই, সরকারের ঘোষিত নীতি অনুসারে সব সমস্যা সমাধান করা হবে। গত নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নীতিগতভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে যে সমর্থন দেখিয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
একইসাথে তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এই মন্দিরকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের আওতায় নেওয়া হবে, যাতে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ শ্রী দেবাশীষ পাল। অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সদস্য শ্রীমতি মঞ্জু ধর ও শ্রী বাবুল দাসকে তাদের বিশেষ অবদানের জন্য ‘গুণীজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন মাননীয় মন্ত্রী। বক্তারা পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *