শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
ত্রি-স্মৃতি বিজরিত পবিত্র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা জাতিসংঘ বেশাখ ডে-২০২৬ এবং বৌদ্ধ ধর্ম ও বিশ্ব শান্তি ” শীর্ষক সিম্পোজিয়াম আজ রাজধানী ঢাকায় বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার বিশুদ্ধানন্দ-শুদ্ধানন্দ অডিটোরিয়ামে ‘বৌদ্ধ ধর্ম ও বিশ্ব শান্তি’ শীর্ষক শিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘের বাংলাদেশ আঞ্চলিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। তিনি বলেন, বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হচ্ছে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করা। অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের বাণী অনুসরণ করলে বিশ্ব থেকে যুদ্ধ, সংঘাত ও অশান্তি দূর করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অধ্যাপক ডাঃ জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বুদ্ধের আদর্শ শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব যেখানে নানা সংকটে জর্জরিত, সেখানে বুদ্ধের ‘সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতা’ (সকল প্রাণী সুখী হোক) বাণী অনুসরণ করে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি। তিনি বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, সরকার সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ১৮ কোটি মানুষের প্রতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ওয়াদাবদ্ধ। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকলে মিলেই আমরা দেশটাকে গড়তে চাই। রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকতে পারে কিন্তু সকলে মিলে সকল অন্যায় , দুর্নীতির উর্দ্ধে থেকে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, খাদ্য, বই পুস্তক প্রদান, উচ্চ শিক্ষার জন্যে নানা সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দেশের ৫২ শতাংশ নারী ও ৩.৪ শতাংশ শিশুকে পিছনে ফেলে রেখে এ দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী ও শিশুর কল্যাণে আমার মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শ্রী সদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথের এর সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Archbishop Kevin Stuart Randall, দি রিপাবলিক অফ দি ইউনিয়ন অফ মায়ানমারের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Mr.U Kzaw Soe Moe ও দি পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না এর কালচারাল সেক্রেটারি Mr.Li Shaopeng এবং ইউ এস এম্বাসীর পলিটিক্যাল অফিসার মি. বার্নার।
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ, নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের নেতৃবৃন্দ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বুদ্ধ পূর্ণিমার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ দর্শনের শান্তি ও মানবতাবাদী বাণীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করলে বৈষম্য, হিংসা ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এই শিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।