নওগাঁয় ভূয়া প্লাটিনাম কয়েন বিক্রয় চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় ভূয়া প্লাটিনাম কয়েন বিক্রয় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি পুলিশ)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সারাদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি ভূয়া প্লাটিনাম কয়েন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঢাকা জেলার মোহাম্মদপুর থানার আজিজ মহল্লা এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে মো: উজ্জ্বল (৪৭), ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদপিয়া এলাকার সেলিম খানের ছেলে আল মামুন (৪৭), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লাহ থানার মাহমুদপুর এলাকার ওসমান গনির ছেলে দেলোয়ার (৪৮) এবং নওগাঁ সদর থানার দাসকান্দি এলাকার আব্দুস সোবাহানের ছেলে আবু সাঈদ (৩৪)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল দুইজন ভুক্তভোগী আমার কাছে এসে জানায় একদল প্রতারক দুটি মূল্যবান কয়েন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে বিক্রি করতে চায়। ইতোমধ্যে প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে বিভিন্ন তারিখে মোটা অঙ্কের কয়েক লক্ষ টাকা নেয়। ভুক্তভোগীদের নিকট আজ কয়েনগুলো হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু তারা দিবো দিবো করে দিচ্ছিল না । প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীদের নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে যেতে বলে। ভুক্তভোগীরা সেখানে গেলে তাদেরকে পায়না। পরবর্তীতে আরো কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করে এবং টাকা আজকে দিলে কয়েনগুলো তাদের নিকট হস্তান্তর করবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমার নিকট সন্দেহভাজন হলে আমি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে আসামি সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেই। আমার নির্দেশনা পেয়ে টিম ডিবি বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শহরের হোটেল ফারিয়াল থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায় শহরের এক ব্যক্তির নিকট মূল্যবান প্লাটিনাম কয়েন সংরক্ষিত আছে। তাদের দেওয়া তথ্যে শহরের আরেকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূল হোতা আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবু সাঈদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তার নিজ বাড়ি থেকে দুইটি ভুয়া প্লাটিনাম কয়েন উদ্ধার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *