শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকের দুটো হাতকে উন্নয়নের চাবিকাঠি ভাবতেন- শ্রমিক দিবসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের দুটো হাতকে উন্নয়নের চাবিকাঠি ভাবতেন এবং এদেশের শ্রমিকের কল্যাণে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আজ সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এসব কথা বলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রম কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিকতাকে সমুন্নত রেখে শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের শিক্ষিত ও বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ চলমান রয়েছে। দেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শ্রমজীবীদের বিদেশে কর্মসংস্থানেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনি নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করে সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্কে বজায় রাখা ও শ্রমিক-মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তবে, কোন স্বার্থান্বেষী পক্ষের প্ররোচনায় শ্রম অসন্তোষের মত কোন বিষয়ে যেন শ্রমিকেরা জড়িয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে তিনি সকলকে সচেতন থাকার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান ও বাস্তবায়নের ফলে গত ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রাক্কালে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছিল। বেতন বোনাস ও প্রাপ্য ছুটি ঈদের পূর্বে নিশ্চিত করায় শ্রমিক ভাই-বোনেরা নিরাপদে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে আনন্দ উপভোগ করেছিলেন। আগামী ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোহ গ্রহণ করেছি। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা ও গঠনমূলক সহযোগিতা পেলে এই পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় ও শ্রম সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং শ্রম খাতের সম্ভাবনার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।

আলোচনা সভার পূর্বে সকাল ৮ টায় মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। শ্রমমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টি সজ্জিত এ র‍্যালি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ফটকে এসে শেষ হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রমসচিব মোঃ আব্দুর রহমান তালুকদার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ এবং কারখানা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, এবং শ্রমিকেরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *